সাগরকন্যা কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানসমূহ

সাগরকন্যা কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানসমূহ

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান-সাগরকন্যা কুয়াকাটা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষনীয় নাম। আঠার কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত সহ কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম মনোরম সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত।

সুলতানি বা মুঘল আমলে এই অঞ্চলে মানব বসতি শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে এই ইতিহাসের ভাবনা। 'কুয়া' শব্দের উৎপত্তি 'কুপ' থেকে। আঠার শতকে আরকানরা মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়েছিল এবং এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। অতঃপর তারা এখানে সুপেয় পানির অভাব মেটাতে প্রচুর কূপ বা গর্ত খনন করে, তাই এ অঞ্চলের নাম হয় কুয়াকাটা।

সাগরকন্যা কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানসমূহ

বাকেরগঞ্জ ইতিহাসের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বাউফলের কচুয়ায় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশের প্রতিষ্ঠার তথ্য পাওয়া যায়। 1582 সালে মুঘল সাম্রাজ্যের সময় বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীকে বাকলা সরকার বলা হত। তবে ইতিহাসের পাতায় পরিচিত কুয়াকাটা রাখাইনের প্রতীক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাগ্যের সন্ধানে প্রথম বাঙালি ১৯০৩ সালে কুয়াকাটায় আসেন।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত - কুয়াকাটার আকর্ষণ

কুয়াকাটা এখন সারা বিশ্বে পর্যটন শহর তথা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। নভেম্বরে রাস মেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃষ্ণ ভক্তরা উপস্থিত হন। একইভাবে মাঘী পূর্ণিমায় পবিত্র স্নানের আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখ লাখ দেশি-বিদেশি তীর্থযাত্রী আসেন।

কুয়াকাটায় বসবাসরত রাখাইনরা দীর্ঘদিন ধরে উপজাতি হিসেবে পরিচিত হলেও রাখাইনরা কুয়াকাটার আদিবাসী। রাখাইনরা মূলত মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের বাসিন্দা। 1782 সাল থেকে রাখাইনরা বিভিন্ন অত্যাচারের শিকার হয়েছে। 1784 থেকে 1814 সাল পর্যন্ত মিয়ানমারের শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় এক লাখে দাঁড়িয়েছে।

রাখাইনরা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে বসতি স্থাপন করলেও তারা তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বিশেষ করে রাখাইনদের খাদ্য, পোশাক ও ভাষায় তারা বাঙালিদের থেকে তাদের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছে। রাখাইনরা বিয়ের অনুষ্ঠানে সংস্কার মেনে চলে। যেমন, বর্ষাকালে রাখাইনদের মধ্যে বিয়ে হয় না। কুয়াকাটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মোহনীয় ভূমি। এই পর্যটন নগরীকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকার কুয়াকাটাকে পৌরসভা ঘোষণা করে। কুয়াকাটার বিখ্যাত কূপ যা এক সময় সুপেয় পানির একমাত্র উৎস ছিল তা এখন ঐতিহ্যের অংশ।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতঃ

কুয়াকাটার প্রধান আকর্ষণ সমুদ্র সৈকত। সৈকতে দাঁড়িয়ে, নীল আকাশ যতদূর চোখ যায় দক্ষিণে বিস্তৃত। প্রতি মুহূর্তে সমুদ্র সৈকতে ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সৈকতটিতে হাজার হাজার পর্যটকদের জন্য ব্যক্তিগত বসার জায়গা, ঘোড়া, গাড়ি, খাবারসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সৈকত ভাঙন রোধে বন বিভাগের মনোলোভা ঝাউবন রয়েছে। যেখানে বাতাসের আওয়াজ চলতে থাকে। রাতে অমাবস্যার আঁধারে সাগরের ঢেউ ফসফরাস মিশ্রিত আলো ছড়ায়।

কুয়াকাটার কুয়াঃ
কুয়া থেকে কুয়াকাটা নামের উৎপত্তি। এই কূপটি সমুদ্রের নোনা জল এলাকায় মিঠা পানির একমাত্র উৎস। এই কূপে ভূগর্ভস্থ পানি বা বৃষ্টির পানি রয়েছে। কুয়াকাটার বৌদ্ধ বিহারের প্রবেশ পথে কূপ। সরকারের আর্থিক সহায়তায় কূপটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারঃ
কূপের পাশেই রয়েছে বৌদ্ধ মন্দির। যা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত। নয়টি ধাতু দিয়ে তৈরি বৌদ্ধ পুঁতি রয়েছে। চুন্দ্রী দেবী, শাক্য রাজা এবং চিওয়ালী আরহং বৌদ্ধ বিহারের প্রবেশপথে দুটি মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো চুন্দ্রী দেবীর। রাখাইনদের ধর্মীয় বিশ্বাসে চুন্দ্রী দেবী মন্দিরের রক্ষক। সিঁড়ির উপরের প্রান্তে রাজা শাক্যের মূর্তি। সকাল ৮টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিহারটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রতি 10 টাকা ফি রয়েছে।

নৌকা জাদুঘরঃ
কুয়াকাটা নৌকা জাদুঘর ভেরিবাঁধের ঢালে শ্রীমঙ্গল বুদ্ধ বিহার ও রাখাইন মার্কেট সংলগ্ন অবস্থিত। একটি পালতোলা জাহাজের ধ্বংসাবশেষ এখানে রাখা হয়েছে। নৌকাটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। নৌকাটি 72 ফুট লম্বা, 22 ফুট চওড়া, 11 ফুট উঁচু এবং 90 টন ওজনের। প্রাচীনকালে এই পালতোলা জাহাজগুলি সমুদ্রপথে বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত হত।

কেরানী পাড়াঃ
কুয়াকাটার প্রধান কেন্দ্রে অবস্থিত রাখাইন গ্রামকে কেরানী পাড়া বলা হয়। ব্রিটিশ আমলে নালাউ নামের এক রাখাইন ব্যাংকের কেরানির কাজ করতেন। তার উপাধি থেকে এই গ্রামের নাম কেরানী পাড়া।

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক)ঃ
কুয়াকাটা জিরোপার্ক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে ৭০০ একর জায়গা জুড়ে কুয়াকাটা ইকোপার্ক অবস্থিত। এখানে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের বনজ ফলের গাছ লাগানো হয়েছে।

গঙ্গামতির চরঃ
কুয়াকাটার প্রধান পর্যটন স্পট থেকে ৬ কিলোমিটার পূর্বে গঙ্গামতি অবস্থিত। গঙ্গামতি খালের তীরে গঠিত হওয়ায় চরকে গঙ্গামতি বা গঙ্গামতির চর বলা হয়। মূল স্থানের চেয়ে সূর্যোদয় এখান থেকে ভালো দেখা যায়।

আব্দুল আলী গাড়ুলি স্মৃতি স্থানঃ
বিখ্যাত সপুড়ে আব্দুল আলী গাড়ুলি যার সাপ ধরার বিভিন্ন লোককাহিনী রয়েছে। মিসরিপাড়া থেকে ৭ কি.মি. উত্তরে বৌলতলী পাড়ার জায়গা।


মিশ্রীপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহারঃ
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে সাত কিলোমিটার পূর্বে মিশ্রীপাড়ায় রাখাইন গ্রামের অবস্থান। প্রভাবশালী মিশ্রী তালুকদারের নামে গ্রামের নামকরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এখানকার বৌদ্ধ মন্দিরটি সীমা বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত। এটিতে একটি 200 বছরের পুরানো বৌদ্ধ মূর্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।


নয়পাড়া বৌদ্ধ বিহারঃ
আলিপুর থেকে কুয়াকাটা থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে রাখাইনদের একটি ছোট্ট গ্রাম রয়েছে যা নয়পাড়া নামে পরিচিত। গ্রামাঞ্চলে চারটি পরিবার বাস করে তবে এখানে একটি সুন্দর বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। মন্দিরের দেয়ালে ভগবান বুদ্ধের প্রতিকৃতি রয়েছে

গোড়া আমখোলাপাড়া রাখাইন গ্রামঃ
কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় রাখাইন সম্প্রদায়ের অবস্থান গোড়া আমখোলাপাড়া রাখাইন গ্রামে। আলিপুর বন্দর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে এই রাখাইন গ্রামটি। টিন এবং কাঠ ব্যবহার করে মঞ্চে মন্দিরে অনেক ছোট বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।

আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বিভাগঃ
এটি বাংলাদেশের অন্যতম মৎস্য বন্দর। আলিপুর বন্দরের পাশে কালাচান পাড়া নামে একটি রাখাইন গ্রাম রয়েছে। কুয়াকাটার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই রাখাইন গ্রাম।

ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্টঃ
ইলিশ পার্ক কুয়াকাটা পৌরসভায় অবস্থিত। জিরো পয়েন্ট থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। পার্কটি 40 শতাংশ জমির উপর অবস্থিত। পার্কের ভেতরে বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য রয়েছে।

শুটকি পল্লীঃ
কুয়াকাটায় শুটকির চাহিদা না থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে শুটকির চাহিদা থাকায় কুয়াকাটায় শুটকি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। সৈকতের পশ্চিম দিকে লেমন গ্রাসের অস্থায়ী বুরুজ দিয়ে শুকনো কুঁড়েঘর তৈরি করা হয়েছে।

স্বপ্নরাজ্য পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টঃ
স্বপ্ন রাজ্য পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে ভেরী বাঁধের পাশে অবস্থিত। এখানে একটি ছোট পার্ক আছে। পার্কে কিছু জীবন্ত প্রাণী আছে।

পানির জাদুঘর
পানিসম্পদ ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করতে এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এশিয়ার প্রথম ওয়াটার মিউজিয়াম। কলাপাড়া উপজেলা থেকে ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে পাখিমারা বাজারের পাশে অবস্থিত। এটি একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

লেম্বুর বনঃ
পর্যটকরা মনে করতে পারেন লেম্বুর বন বা বাগান। আসলে লেম্বুর রাখাইন সম্প্রদায়ের একটি মেয়ে। তার বাড়ি ও বাগান ছিল এখানে। সাগরে বাড়ি হারিয়েছেন। এখান থেকে পশ্চিমে ফাতরার বন দেখা যায়। লেম্বুর বাগান থেকে সূর্যাস্ত সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। এখানে প্রচুর সামুদ্রিক শামুকের খোল পাওয়া যায়। এখানে বেশ কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। কাঁকড়া বা মাছের পোনা পাওয়া যায়।

ফাতরার বনঃ
আন্ধারমানিক নদীর মোহনা পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরের তীরে এই ম্যানগ্রোভ বন গড়ে উঠেছে। এ বনে হরিণ, বানর, শূকর, বন মোরগ, শেয়াল, বাগদা, মেছোবাগ, ভোদার, খরগোশ, অজগর দেখা যায়। বনের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সরকারি অর্থায়নে ইকোপার্ক তৈরি করা হয়েছে।

লাল কাঁকড়ার চরঃ
কুয়াকাটার বিভিন্ন স্থানে লাল কাঁকড়া দেখা যায়। যা পর্যটকদের খুবই আকর্ষনীয়।

সোনার চরঃ
সোনার চর পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের বুকে এই চর দক্ষিণ সীমান্তের শেষ ভূমি। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখি।

কুয়াকাটা ভ্রমণে পর্যটকদের ন্যূনতম দুই দিন সময় রাখতে হবে। কুয়াকাটা বিভিন্ন প্যাকেজ ট্যুর অফার করে। জল ও স্থলপথে এসব ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের ভেড়িবাধ, কেরানী পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে খাবার হোটেল রয়েছে। সস্তা এবং ব্যয়বহুল উভয় ধরনের মানসম্পন্ন খাবার পাওয়া যায়। কুয়াকাটার রাখাইনদের লোকসংগীত, অভিনয়, নাচের ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী তারা আয়োজন করে। কুয়াকাটায় এমন অনেক বাজার রয়েছে যেখানে পোষাম, শামুক, ঝিনুকের কাজসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য তুলাতলীতে একটি বিশ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য কুয়াকাটায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হোটেল ও মোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে বিভিন্ন ধরনের বেড এসি, নন এসি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কুয়াকাটায় অন্তত 60টি হোটেল এবং মোটেল রয়েছে যেখানে 10,000 লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় যাতায়াতের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত এসি ও নন এসি বাস রয়েছে। এছাড়া ঢাকা পটুয়াখালী লঞ্চ সার্ভিস রয়েছে। বরিশাল থেকে বিমানযোগে কুয়াকাটা যাওয়ার ব্যবস্থা আছে।

Post Related Things: কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানসমূহ, কুয়াকাটা ভ্রমণ, কুয়াকাটা সম্পর্কে তথ্য, সাগরকন্যা কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানসমূহ, কুয়াকাটা কোথায় অবস্থিত, Sagarkanya Kuakata attractions, Kuakata attractions, Kuakata beach, Bangladesh attractions, Kuakata travel, Information about Kuakata, Where is Kuakata located
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url